বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে এই অভিযাতের সময় হাতেনাতে আটক চার ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর সংলগ্ন এলাকায় বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বরিশাল দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন।
সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতু এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা কোস্টগার্ডের একটি দল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা আল আমিনের মালিকানাধীন দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় ‘রিফাজ জাহান ইকরা-১’ নামের একটি ড্রেজার এবং বালুবোঝাই ‘এম-১’ ও ‘এমবি জোবেদা’ নামের দুটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এম-১ বাল্কহেডের ভেতরে আনুমানিক সাড়ে সাত হাজার ঘনফুট অবৈধ বালু মজুত ছিল।
অবৈধ বালু উত্তোলনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাল্কহেড চালক বাচ্চু মিয়া এবং অপর তিন শ্রমিক আব্দুল জলিল, মো. লিটন ও হুমায়ুনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটককৃত চার ব্যক্তিকে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় সাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা জানান, নদ-নদীর পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ দখল ও বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের এ ধরনের কড়া অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।