খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চালক মো. যুবরাজ অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে জেলা শহরের মহাজন পাড়া এলাকার প্রধান সড়কের পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আহত বাসচালক মো. যুবরাজ জানান, রাতের কাজ শেষে তিনি বাসের ভেতরেই ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ আগুনের প্রচণ্ড উত্তাপ ও ধোঁয়ায় তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে চারদিকে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় জীবন বাঁচাতে তিনি বাসের ভেতর থেকে চিৎকার শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা একই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা আরও একটি বিআরটিসি বাসে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই বাসে আগুন না ধরায় সেটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে আজ সকাল সোয়া ৭টায় গাড়িটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রামের উদ্দেশে খাগড়াছড়ি ছেড়ে গেছে।
বিআরটিসির টিকিট মাস্টার বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই নাশকতা ও হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অগ্নিসংযোগের বিষয়ে খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিআরটিসি বাসে আগুন লাগার জরুরি সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসটির ভেতরের ও বাইরের উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে বাসে আগুনের এই ঘটনার জন্য সাবেক ক্ষমতাসীন দলের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সরাসরি দায়ী করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা স্পষ্টতই আওয়ামী সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের কাজ। তবে সারা দেশে যারা বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টি করছে, মূলত তারাই এই সন্ত্রাসীদের পে পিছন থেকে মদদ ও রসদ জুগিয়ে যাচ্ছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায় কিসলু জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নাশকতার প্রকৃত কারণ উন্মোচনে পুলিশ ইতোমধ্যে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।