×
সদ্য প্রাপ্ত:
একাত্তরের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, চব্বিশ ছিল রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৭
  • ২৫ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি:

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার্থে যেভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও এ দেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শুরুতেই ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সমস্ত চক্রান্ত প্রতিহত করেছিল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল প্রকৃত অর্থে আমাদের জাতীয় শত্রু এবং মিত্রদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার দিন।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে জানান, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। সেই ধারাবাহিক ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের পথ ধরেই ওই বছরের ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। মহান স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি করে দেশের স্বার্থবিরোধী যে নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল, এ দেশের দামাল সিপাহী ও সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয়। ঠিক এ কারণেই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর হলো ‘জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর’।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, যারা একসময় বাংলাদেশকে একটি পরনির্ভরশীল ও তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় বাকশালি শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল—আমাদের পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবকে যারা ভুলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল। সেই অপশক্তি সেদিন সম্পূর্ণ পরাভূত হয়েছিল।

৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই পরাজিত অপশক্তির চক্রান্ত কখনোই থেমে থাকেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিশেষ করে পিলখানায় পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে তারা আমাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছিল। সাধারণ মানুষের সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে এক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল।

তবে হাজারো তাজা প্রাণের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই পরাজিত অপশক্তির পুনরায় পতন ঘটেছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ এই আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের সকলের অবদানকে স্মরণ করছি।’

নাগরিক পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—যাঁরাই এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের একটাই পরম গর্বিত ও প্রধান পরিচয় হলো আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’। এই সার্বজনীন পরিচয়টিই অতীতে আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের এই ‘আমরা বাংলাদেশী’ পরিচয় নির্ধারণের মূল ভিত্তিভূমিও রচনা করেছিল। সুতরাং, যতদিন এই বাংলাদেশ মানচিত্রে টিকে থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই বিপ্লবের অবিসংবাদিত নায়ক ছিল এ দেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সরাসরি সম্মুখ সমরে লড়াই করেছিলেন। আজ ৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীত স্মৃতির রোমন্থন নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুদ্ধ ইতিহাস হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান প্রেরণা। আজকের এই আয়োজনের মূল বিশেষত্ব হলো, আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী যেভাবে এই স্টেডিয়ামে অত্যন্ত নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে ফুটিয়ে তুলেছে, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো নিজের পথ হারাবে না।’

ভবিষ্যতের প্রধান অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এ দেশের সাধারণ মানুষ ও জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে কোনো অবস্থাতেই কোনো তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এটাই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান জাতীয় অঙ্গীকার।’ এই পবিত্র অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হলে আমাদের অবশ্যই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মননে ও প্রাণে গভীরভাবে ধারণ করতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব ও সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব; তবে সেই গৌরবের লালিত পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য অর্থবহ করে তোলা এ দেশের প্রতিটি প্রজন্মের পবিত্র দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মূল দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার চিরন্তন মন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করা।’ অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সমস্ত সুপ্ত সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘ইতিহাস এ সত্যেরই সাক্ষ্য দেয় যে, যতবারই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং যতবারই এ দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের অদম্য চেতনায় বলীয়ান হয়ে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের এই বিপ্লবদিবসে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—“দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat