×
সদ্য প্রাপ্ত:
একাত্তরের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, চব্বিশ ছিল রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৪
  • ৮৭ বার পঠিত
মোঃ আল-আমিন সরকার, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

একসময় গ্রামীণ জনপদে সাপুড়েদের সাপের খেলা কিংবা নারীদের লোকজ চিকিৎসা মানুষের নজর কাড়লেও সময়ের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহ্য। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও জীবিকার তাগিদে বংশপরম্পরার এই পেশা ও যাযাবর জীবন এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা ব্রিজসংলগ্ন করতোয়া নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে এমনই এক ভাসমান বসতি। স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার সাভার হলেও কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানোই এখন তাঁদের জীবনের নিত্যদিনের রুটিন। করতোয়ার পাড়ে অস্থায়ী তাঁবু বা কুঁড়েঘর তৈরি করে বর্তমানে বসবাস করছেন প্রায় ৩০টি সাপুড়ে বেদে পরিবার। নদীর তীরজুড়ে সারি সারি ঘর, রান্নার ব্যস্ততা আর শিশুদের কলকাকলিতে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময়ের বড় এই বহরে অর্ধশতাধিক পরিবার থাকলেও সময়ের স্রোতে তা সংকুচিত হয়ে এখন ৩০টিতে ঠেকেছে। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সাপের ঝাপি কাঁধে নিয়ে হাটবাজারে ঘুরে লোকরঞ্জন ও সাপের খেলা দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে আধুনিক বিনোদন আর প্রযুক্তির যুগে এই পেশার কদর ও আয় দুটোই তলানিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে, নারীরাও বসে নেই; তাঁরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিংগা লাগানোসহ সনাতন লোকজ চিকিৎসার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বহরের এক নারী জানান, গ্রামে গ্রামে ঘুরে লোকজ চিকিৎসা করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে ডাল-ভাত খেয়ে দিন চলে। কাজ না থাকলে বা আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে তাদের সংসারে নেমে আসে চরম অনটন।

এদিকে, যাযাবর জীবনের কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ। নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা না থাকায় তাদের নিয়মিত পড়াশোনা, সুচিকিৎসা কিংবা নিরাপদ শৈশবের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বড়দের সঙ্গে জেলা থেকে জেলায় ঘুরে বেড়ানোই তাদের নিয়তি।

করতোয়া পাড়ের এই অস্থায়ী বসতি কেবল ৩০টি পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই নয়; এটি গ্রামবাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির এক সুপ্রাচীন ইতিহাসের প্রতীক। ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার এই নিরন্তর লড়াইয়ের পাশাপাশি বেদে পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে নিরাপদ আবাসন, শিশুদের শিক্ষা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জোরালো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat