দেশের অর্থনীতি যখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান ও মন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতায় এবং দেশের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো বিকল্প খোলা ছিল না। দেশের জ্বালানি খাতের চলমান সংকট এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যে হারে ওঠানামা করছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং জাহাজ ভাড়াসহ আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছিল এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে বড় অংকের লোকসান বা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছিল। এই অপরিমিত ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে দেশের অন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক খাতগুলোতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ত, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারত।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের পূর্ণ উপলব্ধি রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।