এস এম ফাতিন শাদাবঃ
রাজধানী ঢাকার আকাশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মহড়ায় রয়েছে বৈদ্যুতিক তার, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগের ক্যাবলের এক জটিল মাকড়াসালের জাল।
যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা এই ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল কেবল নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্যকেই ম্লান করছে না, বরং প্রতিনিয়ত সাধারণ পথচারী ও রাজধানীবাসীর জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ওভারহেড ক্যাবল আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ করার নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান, পল্টন, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর ও পুরান ঢাকাসহ প্রায় প্রতিটি এলাকার অলিগলিতে তাকালেই দেখা মেলে খুঁটিতে পেঁচানো জট পাকানো তারের দীর্ঘ পাহাড়।
অনেক স্থানে অতিরিক্ত ও ভারি তারের চাপে দুর্বল বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো হেলে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়াতেই এসব তার ছিঁড়ে সড়কে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে প্রায়শই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে তার টানার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও ক্যাবল অপারেটরদের সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না এনে যত্রতত্র তার ঝুলিয়ে রাখার ফলে এই দৃশ্য শহরের প্রধান সড়কগুলোকে আরও বেশি বিশৃঙ্খল করে তুলছে।
মাঝেমধ্যে ঝোপঝাড়ের মতো জমে থাকা এসব তারে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সবসময় লেগেই থাকে।এর আগে বিভিন্ন সময়ে আদালতের নির্দেশনা এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঝুলন্ত তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার (আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং) মেগা প্রকল্প বা উদ্যোগের কথা জানানো হলেও দীর্ঘসূত্রিতা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু হলেও অধিকাংশ এলাকাই রয়ে গেছে উপেক্ষিত।ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি মিলছে না।
যেকোনো বড় ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যৌথ উদ্যোগে এই তারের জঞ্জাল অপসারণ এবং সব তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার স্থায়ী রূপরেখা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ জাতীয় আরো খবর..