দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে কোনো সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি বা সরাসরি সামনে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে চলা দালাল চক্র ও অবৈধ বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের প্রধান ফটক কিংবা ঠিক সামনেই গড়ে ওঠা কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিন্ডিকেট সাধারণ রোগীদের প্রতারিত করে আসছিল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হতদরিদ্র রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বা ভয় দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে এই বিশৃঙ্খলার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে কোনোভাবেই ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি থাকতে দেওয়া হবে না। নতুন নিয়মের আওতায় সরকারি হাসপাতালের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনো নতুন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্স বা অনুমোদন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে যেসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ রোগীরা। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা এসব অনিবন্ধিত ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া অবস্থান বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন না দেওয়ার এই কঠোর নীতি স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দালাল রাজত্ব দমনে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও দালালমুক্ত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।