দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রকোপ রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে এখন দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগীর মধ্যে একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং উপযুক্ত প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে মশকনিধন কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই মূলত এডিস মশার এই লাগামহীন বিস্তার ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল চিকিৎসাসেবা দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন বাসা-বাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। জমে থাকা পানিতে যেন এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু এবং দেড় হাজারের বেশি নতুন রোগী ভর্তির এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতি কতটা গুরুতর তা স্পষ্ট করে তোলে। ডেঙ্গুর এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাব রোধে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।