দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোরহস্তে দমনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের দৃশ্যমান ব্যর্থতা বর্তমান সরকারের সামগ্রিক অর্জন ও সংস্কারের উদ্যোগের জন্য একটি বড় ‘অশনিসংকেত’ বলে মন্তব্য করেছে দেশের সুপরিচিত গবেষণা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত ও আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় এবং অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিস্তারিত গবেষণাভিত্তিক ও পর্যালোচনামূলক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়। সাম্প্রতিক দেশীয় প্রেক্ষাপট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে টিআইবি অবিলম্বে এই বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বা পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির সুবিধাবাদী ও দুর্বৃত্ত চক্র নতুন করে বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ফুটপাত ও বাস টার্মিনাল দখল এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের পুরনো সংস্কৃতিতে লিপ্ত হয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ মানুষের মুক্ত জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের একধরনের শৈথিল্য বা নির্লিপ্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের সাইনবোর্ড বদল হলেও চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট এবং টর্চার সেলগুলোর হাতবদল ঘটেছে মাত্র, যার ফলে সাধারণ জনগণ ও ছোট ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।