রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে ১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তিনজনের শরীরে এই রোগের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলায় সচেতনতামূলক বৈঠক এবং গবাদিপশুর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সংক্রমণের সূত্রপাত ও শনাক্তকরণ:
প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপাড়া এলাকায় সেনাসদস্য সুমন মিয়া ও তার পরিবারের দুই সদস্যের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মাহমুদুর রহমান ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মাধ্যমে নমুনাগুলো ঢাকায় রোগতত্ত্ব বিভাগে পাঠানো হলে পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর রোগতত্ত্ব বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের এক আত্মীয় প্রায় চার মাস আগে বাইরে থেকে একটি গরু কিনেছিলেন। গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ সেপ্টেম্বর সেটি জবাই করে মাংস ভাগ করে নেওয়া হয়। মাংস কাটাকাটি করার পর তাদের হাতে কালো দাগ এবং অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পদক্ষেপ:
রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ হাসান খান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ায় বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। অ্যানথ্রাক্স মূলত আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে ছড়ায় উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা. নাজমুল হুদা জানান, অ্যানথ্রাক্স একটি মাটিবাহিত রোগ, যার জীবাণু মাটিতে প্রায় ৬০ বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। রোগটি প্রতিরোধে গবাদিপশুর টিকাদানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ৩ লাখ ২০ হাজার পশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যের বিপরীতে জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে ২ লাখ ৩৭ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত আরও ৩ লাখ পশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ:
উল্লেখ্য, গত বছর পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে এসে ৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে, রংপুর নগরীতে প্রতিদিন প্রচুর গরু জবাই হলেও অপর্যাপ্ত তদারকি ও বাইরে থেকে কম দামে অসুস্থ পশু এনে মাংস বিক্রির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পশুখামার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।