বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ও অপরাধের ধরন পাল্টে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষতা এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি এবার বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সারাদেশে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও নতুন ল্যাব:
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে মেট্রোপলিটন ও জেলা পর্যায়ে সাইবার সেলের অবকাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে। আগামী মাস থেকেই ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরগুলোতে নতুন করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব চালুর কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আইনি প্রতিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন:
সাম্প্রতিক সময়ে হ্যাকিং, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ (Cyber Police Unit) গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই বিশেষায়িত ইউনিটটি গঠিত হলে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের সাইবার অপরাধের ডাটাবেজ তৈরি এবং জটিল মামলাগুলোর তদন্ত আরও গতিশীল হবে।
প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন:
তদন্ত কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে বিশেষায়িত কোর্স চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে একদল বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত যেকোনো অপরাধ দমনে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এই আধুনিক ল্যাব ও স্বতন্ত্র ইউনিটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।