×
সদ্য প্রাপ্ত:
সাইবার অপরাধ দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব বৃদ্ধির উদ্যোগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের : যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সমর্থন জানালেন তারেক রহমান সীতাকুণ্ডে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২ ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে আটক ৬২৪ গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক ৪ দিনের রিমান্ডে জ্বালানির দাম বাড়ায় ক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২৬
  • ১৮ বার পঠিত
পরিতোষ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রামের দুই ব্যবসায়ী সংগঠন। আগামী ১ থেকে ২৯ নভেম্বর একই মাঠে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই) ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। এরই মধ্যে শনিবার মেলার প্রস্তুতির সময় হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে সিএমসিসিআই। তবে ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিসিসিআই।

সিএমসিসিআইয়ের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদন নিয়ে তারা নভেম্বরের মেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। মাঠ ভাড়া বাবদ ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, শনিবার সকালে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজ চলার সময় একদল লোক সেখানে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় নির্মাণাধীন মালামাল ও সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়।

মেলার ইভেন্টের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হান্নান সিকদার বলেন, ‘আমরা মেলার কাজ করছিলাম। হঠাৎ কিছু লোকজন এসে প্রথমে আমাকে সমঝোতা করতে বলে। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি বললাম, মেলা তো মেট্রোপলিটন চেম্বারের। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমি তো ইভেন্টের দায়িত্বে আছি। এ কথা বলার পর তারা আমার গায়ে হাত তোলে এবং আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।’

একই সময়ে একই মাঠে দুই মেলার প্রস্তুতি, রেলওয়ের প্রস্তাব ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে

সিএমসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি এ.এম. মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে কীভাবে মেলা শুরু করা যায়, সে বিষয়ে বোর্ড মিটিং করে আমাদের সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

সিএমসিসিআইয়ের অভিযোগ, তাদের মেলার প্রস্তুতি শুরুর পর একই সময়ে একই স্থানে মেলা আয়োজনের চেষ্টা করছে সিসিসিআই। এমনকি তাদের মেলার অনুমতি বাতিলের জন্য রেলওয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলেও দাবি সংগঠনটির।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা ৩২ বছর ধরে এখানে মেলা করে আসছি। এখন অন্য কেউ এসে মেলা করবে, এমন তো হবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজনের সঙ্গে সিসিসিআইয়ের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শনিবারের হামলা, ভাঙচুর কিংবা মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের সংগঠনের কেউ জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

মাঠ বরাদ্দ নিয়ে দুই চেম্বারের বিরোধের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পূর্বের মহাব্যবস্থাপক নভেম্বর মাসে মেলা আয়োজনের জন্য সিএমসিসিআইকে অনুমোদন দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেলা কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই) সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে সব কার্যক্রম শেষ করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এসে একই সময়ে মাঠটিতে মেলা আয়োজনের আবেদন জানিয়েছে।’

রেলওয়ের পক্ষ থেকে সিসিসিআইকে নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সিএমসিসিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রায় ২৪০টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী এবং আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে সিসিসিআইয়ের দাবি, তারা গত ৩২ বছর ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। বিভিন্ন বছর প্রায় ৪০০টি স্টলে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিয়েছে।

শনিবারের ঘটনার খবর পেয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে যায় পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি।

দুই চেম্বারের পাল্টাপাল্টি দাবি ও অভিযোগের মধ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে সিএমসিসিআইয়ের সরকারি অনুমোদন ও মাঠ বরাদ্দের দাবি, অন্যদিকে সিসিসিআইয়ের ৩২ বছরের মেলা আয়োজনের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত নভেম্বরে পলোগ্রাউন্ডে কার মেলা বসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat