×
সদ্য প্রাপ্ত:
হাম উপসর্গে ২৪ ঘন্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর-লুটপাট সাইবার অপরাধ দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব বৃদ্ধির উদ্যোগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের : যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সমর্থন জানালেন তারেক রহমান সীতাকুণ্ডে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২ ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে আটক ৬২৪ গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২৭
  • ২ বার পঠিত

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প উৎপাদন, পরিবহন খাত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে জ্বালানি সংকট ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা খুব দ্রুত নিরসন হবে বলে জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন দেশের জ্বালানিমন্ত্রী। দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নানা ধরনের বহুমুখী, সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সচিবালয়ে জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পেট্রোবাংলা, বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এক দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, এলএনজি (Liquefied Natural Gas) আমদানিতে দীর্ঘসূত্রিতা এবং স্থানীয় পাইপলাইন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল। বিশেষ করে কারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জনজীবনও এক প্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

এই বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এবং কলকারখানার চাকা সচল রাখতে জ্বালানি খাতের সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কেবলমাত্র সাময়িক আমদানি নির্ভরতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আমদানিসংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলো কমিয়ে আনার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা হচ্ছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট সুবিধার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে।" বন্দরগুলোতে খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কাস্টমস ও পোর্ট অথরিটিকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলো পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত খালাস করে জাতীয় গ্রিডে বা ডিপোতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। জ্বালানিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যেসব বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার সুফল খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এবং শিল্প খাতে পড়বে।

বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় এবং গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্প কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসবে। এছাড়া সাধারণ consumers বা ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি কমাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ যৌথভাবে মনিটরিং সেল জোরদার করেছে।

আমদানির ওপর অতিমাত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বাপেক্স (BAPEX)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (IOC) সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অফশোর ও অনশোরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যেসব পুরোনো গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন কমে গেছে, সেগুলোতে ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। একই সঙ্গে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের সিস্টেম লস এবং অবৈধ সংযোগ কঠোরহস্তে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জ্বালানির অপচয় রোধ করে সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat