×
সদ্য প্রাপ্ত:
হাম উপসর্গে ২৪ ঘন্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সন্ত্রাসীদের ভাঙচুর-লুটপাট সাইবার অপরাধ দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব বৃদ্ধির উদ্যোগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের : যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সমর্থন জানালেন তারেক রহমান সীতাকুণ্ডে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২ ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে আটক ৬২৪ গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২৭
  • ২৫ বার পঠিত
মোঃ মিলন, ​বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অবৈধ ক্যাসিনো, জুয়া ও মাদকের নেটওয়ার্ক। এলাকাটির বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টিং ক্লাব এবং আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ কারবার। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পুরো চক্রটির মূল হোতা ‘নাতি’ আনোয়ার ও তার ভাই শাকিল।

​যেসব স্থানে চলছে অবৈধ আসর
​স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানী তথ্যে জানা যায়, মতিঝিলের অন্তত তিনটি মূল স্পটে নিয়মিত বসছে জুয়া ও মাদকের আসর

​ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব: ক্লাবের ভেতরের তিনটি কক্ষ ব্যবহার করে দিনে ও রাতে দফায় দফায় জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে।

​ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব: চারটি নির্দিষ্ট কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে ক্যাসিনো স্টাইলের অবৈধ খেলা ও মাদক সরবরাহ।

​হোটেল পূর্বানী: আবাসিক হোটেলটির একাধিক বিশেষ কক্ষ ভাড়া নিয়ে গোপনে চালানো হচ্ছে হাই-স্টেক্স জুয়া।
​ক্লাব ও আবাসিক সুবিধার আড়ালে এসব স্পটে প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

​আনোয়ারের উত্থান: ফুট-ফরমায়েশ থেকে নেটওয়ার্ক ডন
​চাঁদপুর জেলার আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার প্রায় দুই দশক আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসেন।

​শুরুর দিনগুলো: আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের জুয়ার আসরে ফুট-ফরমায়েশ খাটার কাজ দিয়ে তার আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রবেশ।

​ক্ষমতার বিস্তার: রাজনৈতিক প্রভাবশালী বলয় ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে দ্রুত নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

​বর্তমান পরিধি: মতিঝিল ছাড়িয়ে ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথ কেন্দ্রিক জুয়া ও মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। তার অধীনে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী রয়েছে, যা পরিচালনা করেন তার ভাই শাকিল।

​অপরাধের কৌশল ও বিপুল সম্পদ
​দৃশ্যমান কোনো বৈধ ব্যবসার হিসাব না থাকলেও আনোয়ারের জীবনযাত্রায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

​প্রযুক্তির আড়াল: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে আনোয়ার নিজের নামে নিবন্ধিত কোনো মোবাইল সিম ব্যবহার করেন না। পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় তিনি ভূয়া বা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করেন।

​আন্তর্জাতিক লিঙ্কের সন্দেহ: অভিনব যোগাযোগ কৌশল ও বড় অংকের লেনদেনের কারণে তার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

​ভীতি প্রদর্শন ও অভিযানের তথ্য ফাঁস
​স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় কোনো অভিযানের পরিকল্পনা হলে, সেই তথ্য আগেভাগেই চক্রের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে মূল অপরাধীরা সময়মতো গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়।

​জনদাবি ও করণীয়
​মতিঝিল এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষা ও যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

​যৌথ অভিযান: লোকদেখানো টহল বা ছকবাঁধা অভিযানের বদলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে ঝটিকা ও গোপন অভিযান পরিচালনা করা।

​প্রযুক্তিগত তদন্ত: অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করে অপরাধীদের ট্র্যাকিং জোরদার করা।

​দুদকের নজরদারি: আনোয়ার ও তার ক্যাডারদের কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস ছাড়া অর্জিত বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat