আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। চলমান বৈশ্বিক সংঘাত ও সংকট নিরসনে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ব সংস্থার ওপর থেকে আস্থার ভিত্তি নড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কূটনীতিক/কর্তৃপক্ষ) আব্বাস আরাগচি। বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চের কার্যকারিতা নিয়ে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জাতিসংঘের নির্লিপ্ত বা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছে তেহরানসহ বিভিন্ন দেশ। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসায় এই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আরাগচি। তার মতে, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যে মূল দায়িত্ব ছিল, আজ তা বহুলাংশে প্রশ্নবিদ্ধ এবং বড় রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের এই অনাস্থার প্রকাশ বিশ্ব রাজনীতিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং মানবিক বিপর্যয় রোধে জাতিসংঘ যদি তার সংস্কার বা কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের মেরুকরণ দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আব্বাস আরাগচির এই কঠোর মূল্যায়ন জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিশ্বমঞ্চে এর কার্যকারিতা হারানোর শঙ্কাকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিশ্ব সংস্থাকে তার নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে হবে—এমনটাই এখন সময়ের দাবি।