দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বরিশালে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের হার শতভাগে উন্নীত করতে প্রায় ৬ হাজার টয়লেট ও গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ও উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক গ্রামীণ এলাকায় আর্সেনিক মুক্ত সুপেয় পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় মূলত দুটি প্রধান দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে:
গভীর নলকূপ স্থাপন: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও গুণগত মান বিবেচনা করে বিশুদ্ধ পানির সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশ কিছু নতুন গভীর নলকূপ (Deep Tube Well) বসানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই আর্সেনিক ও লবণাক্ততামুক্ত সুপেয় পানি পেতে পারে।
স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ: অস্বাস্থ্যকর ও খোলা স্থানে মলত্যাগের অভ্যাস দূর করতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে প্রায় ৬ হাজার পরিবারকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন বা টয়লেট নির্মাণের উপকরণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ জনপদে ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো পানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। বরিশালের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা বহুগুণ বেড়ে যাবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং কাজের স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালে ৬ হাজার টয়লেট ও গভীর নলকূপ স্থাপনের এই উদ্যোগ উপকূলীয় ও জনবহুল গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পথে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।