ভ্যাপসা গরমের দীর্ঘ অস্বস্তিকর পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে রবিবার ভোরে একপ্রস্ত ঝুম বৃষ্টিতে শীতল হয়েছে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা, যা নগরবাসীর মনে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও দিনের শুরুতেই কর্মমুখী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এদিন ভোর সোয়া চারটা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণের আগে তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কিছু সময় পরপর বজ্রপাতের শব্দে জনজীবনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
রাত ১২টায় ঢাকার তাপমাত্রা ২৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৮১ শতাংশ থাকার পাশাপাশি দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করায় যে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রার পারদ নেমে এসে এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ভোরের এই বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে জমে যাওয়ায় অফিসগামী চাকুরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপত্তি ও দীর্ঘ যানজটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, মেগাসিটি ঢাকার এই চিরচেনা জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে হলে কেবল সাময়িক স্বস্তির আশায় বসে না থেকে অবিলম্বে কার্যকর ও আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।