নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের সফল খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। উক্ত কূপের দুটি পৃথক স্তরে বা জোনে সর্বমোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট (৯৭.৬৯ বিসিএফ) গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
গ্রাহক বা ভোক্তা পর্যায় হিসেব করলে এই প্রাক্কলিত গ্যাসের আনুপাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। এই নতুন কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
আজ সোমবার বিকেলে শিখা প্রজ্বলনের (ফ্লেয়ারিং) মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, গ্যাসের সাথে খনিজ তেল বা অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা আগামী ১৫ দিনব্যাপি নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি (ড্রিল স্টিম টেস্ট) পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের যৌথ নিজস্ব অর্থায়নে এই কূপটির খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে কূপটির খননকাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল।
বাপেক্স সূত্র প্রকাশ করে, সংস্থার নিজস্ব 'বিজয়-১০' রিগ ব্যবহার করে চলতি বছরের ৮ জুলাই থেকে সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের মূল খননকাজ শুরু হয়। ভূগর্ভের প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত সফলভাবে এই ড্রিলিং সম্পাদন করা হয়।
কূপটির দুটি নির্দিষ্ট স্তরে গ্যাসের বিশাল মজুদের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত এই কূপ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস উত্তোলন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।