সাব্বির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদারীপুর সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকায় মারিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে বাবার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী ইমরান বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মারিয়া সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকার হানিফ মুন্সির মেয়ে। তার স্বামী ইমরান ডাসার উপজেলার চিড়াইপাড়া এলাকার কালাম বেপারীর ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে বিরোধ চলছিল। ইমরানের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চলাফেরা এবং মারিয়াকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে মারিয়া বাবার বাড়িতে চলে আসেন। রবিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান সেখানে যান। রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তারা একই ঘরে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে শিশুর কান্নার শব্দ শুনে মারিয়ার বাবা ঘরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ঘটনার পর ইমরানকে ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
মারিয়ার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করা হতো। স্বামীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেয়ের বাবা একটি মোটরসাইকেল কিনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ আরো টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এ টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মারিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..