×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৯
  • ৩২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সূর্যসন্তান ও বীরসারথি বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের আজ ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের ঐতিহ্যবাহী ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন এই অমর বীর। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর (যা বর্তমানে বীরের নামানুসারে মতিনগর) গ্রামে। ১৯৭১ সালে প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য তাঁর অসামান্য সাহসিকতা এবং আত্মোৎসর্গকে চির অমলিন করে রাখতে তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

দেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জন দেওয়া এই অকুতোভয় যোদ্ধা ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই গোপনে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন। উদীয়মান বাঙালি তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভৈরব অঞ্চলে একটি গোপন প্রশিক্ষণ শিবিরও স্থাপন করেছিলেন।

সরাসরি রণাঙ্গনে লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সুদূরপ্রসারী ছক আঁকেন মতিউর রহমান। সেই অদম্য লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ চালিত একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশপথে যাত্রা করেন তিনি। বিমানের একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সাথে পাকিস্তানি শিক্ষানবিশ পাইলট রশিদ মিনহাজের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত সংলগ্ন সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয় এবং সেখানে শাহাদাত বরণ করেন মতিউর রহমান। অকালপ্রয়াণকালে দেশপ্রেমিক এই বীরের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর।

এর আগে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে অফিসার কমিশন লাভ করেন মতিউর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬৮ সালে মিলি খানের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এই বীর যোদ্ধা। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে মাহিন ও তুহিন নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

শাহাদাত বরণের পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ করাচির সামরিক গোরস্থানেই তাঁকে দাফন করে। দীর্ঘ ৩৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন এই মহান বীরের পবিত্র দেহাবশেষ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর পরদিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক সম্মানে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক উপাধি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়। তাঁর এই অসামান্য ত্যাগ, বীরত্ব ও গভীর দেশপ্রেম বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat