নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ওএমএসের মাধ্যমে ট্রাকে করে চাল-আটা বিক্রি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সুচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতেই ওএমএস ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও পূর্ণ জবাবদিহি সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো রকমের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। ওএমএসের সুবিধা যেন প্রকৃতপক্ষে সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষের কাছেই পৌঁছায়, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে অনুমোদিত সরকারি দর অনুযায়ী, ওএমএস কর্মসূচির অধীনে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিজন ক্রেতা এক দফায় সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা ক্রয় করার সুযোগ পাবেন। শহীদ মিনার মোড়ের কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন ২০০ জন সাধারণ নাগরিক এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। উক্ত বিক্রয়কেন্দ্রে দৈনিক এক মেট্রিক টন চাল এবং এক মেট্রিক টন আটা বরাদ্দ হিসেবে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মোট নয়টি নির্দিষ্ট পয়েন্টে ওএমএসের এই বিক্রি কার্যক্রম চালু রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের দোরগোড়ায় সুলভ মূল্যে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উক্ত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপি জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।