বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল, পেট্রল এবং অকটেন—প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। এই ঘাটতি মোকাবিলা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বাধ্য হয়েই তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ধিত এই মূল্য অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় দেশের গণপরিবহন ভাড়া, কৃষিকাজে সেচ খরচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি বড় ধরনের বিপর্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করতেই এই অপ্রীতিকর কিন্তু অনিবার্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির এই ধাক্কা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীরা যেন কারসাজি করে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।