প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি হামের (Measles) হঠাৎ এক ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য খাতে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জন রোগীর সকরুণ মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১,৩১৬ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রামক এই রোগটির ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃত্তি প্রতিরোধে শিশুদের এমআর (MR) টিকাদান নিশ্চিতকরণ ও জরুরি আইসোলেশন প্রটোকল কঠোরভাবে বজায় রাখা ছাড়া এই মহামারি সদৃশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের করুণ মৃত্যু এবং রেকর্ড ১,৩১৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশু এবং এমআর টিকার প্রয়োজনীয় দুটি ডোজ না নেওয়া শিশুরা এই সংক্রামক ব্যাধিতে সর্বাধিক আক্রান্ত ও জটিলতার শিকার হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে আইসিইউ (ICU) ও আইসোলেশন বেডের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য ও বর্তমান স্থিতি |
| নতুন মৃত্যু | ৬ জন (গত ২৪ ঘণ্টায়) |
| নতুন হাসপাতালে ভর্তি | ১,৩১৬ জন |
| প্রধান শারীরিক লক্ষণ | তীব্র জ্বর, কাশির সঙ্গে শরীরজুড়ে লালচে গুটি/র্যাশ এবং চোখ লাল হওয়া |
| প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা | শিশুদের বয়স অনুযায়ী এমআর (MR) টিকার সম্পূর্ণ ডোজ প্রদান ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক ডেবিলিউএইচও (WHO) নির্দেশিকা অনুযায়ী আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্র্যাশ টিকাদান কর্মসূচি (Outbreak Response Immunization) চালুর নির্দেশ প্রদান করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম বাতাসে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে পরিবারে কোনো শিশুর লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই তাকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা (Isolation) রাখতে হবে। তীব্র নিউমোনিয়া, কান দিয়ে পুঁজ পড়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা এড়াতে প্রারম্ভিক পর্যায়েই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সেবন ও দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছে সরকার।