দেশে সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কোনোরকম বন্দুকযুদ্ধ বা ‘ক্রসফায়ারে’র মতো বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচলিত আইনই যথেষ্ট।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগের সংস্কার এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন:
আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতি: মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাকে দেশের স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
তদন্ত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিখুঁত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সংস্থাসমূহ এবং ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
বিচার বিভাগের গতিশীলতা: স্পর্শকাতর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে সুশীল সমাজ ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করার এই বার্তা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুলাংশে ফিরিয়ে আনবে। অপরাধ দমনে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।