বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর বা কনের পূর্বের বিবাহ এবং কোনো সন্তান থাকলে কাবিননামায় সেই তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বিধান কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে এ বিষয়ে বর্তমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন এবং সংশ্লিষ্ট কাবিননামা ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা পরিবর্তন আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আজ এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রুল প্রদান করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
রিট আবেদনে বলা হয়, বর্তমান কাবিননামা ফরমে পূর্বের বৈবাহিক অবস্থা (যেমন: অবিবাহিত, বিবাহিত, ডিভোর্সি বা বিধবা/বিপত্নীক) সম্পর্কিত সাধারণ ঘর থাকলেও সন্তান আছে কি না বা পূর্বের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখার সুযোগ থেকে যায়। এর ফলে প্রতারণা ও পরবর্তী দম্পতির মধ্যে আইনি ও পারিবারিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, বিয়ের মতো একটি পবিত্র সামাজিক ও আইনি চুক্তিতে উভয় পক্ষের সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিয়ের পূর্বে কোনো পক্ষের সন্তান থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অধিকার সুরক্ষায় এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডভুক্ত থাকা আবশ্যক।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনি রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই রুল চূড়ান্ত আদেশে রূপ নিলে বিবাহ সংক্রান্ত প্রতারণা বহুগুণে কমবে এবং কাবিননামায় পারিবারিক স্বচ্ছতা ও সন্তানের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হবে।