দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে সন্দেহভাজন ও পরীক্ষিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৩০ জনে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্যের এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, নতুন করে মারা যাওয়া ৮ জনই সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল।
| বিবরণ / সূচক | গত ২৪ ঘণ্টার উপাত্ত | ১৫ মার্চ থেকে মোট সংকলন |
| নতুন মৃত্যু (উপসর্গ ও পরীক্ষিত) | ৮ জন | ১,০৩০ জন |
| ল্যাব-পরীক্ষিত নিশ্চিত মৃত্যু | ০ জন | ১০০ জন |
| সন্দেহভাজন হামের রোগী (আক্রান্ত) | ৯০০-এর বেশি | ১,৭২,০০০-এর বেশি |
| হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী | — | ১,৫১,০০০-এর বেশি |
| সুস্থ হয়ে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগী | — | ১,৪৫,০০০-এর বেশি |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে টিকাদানের হার হ্রাস এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য এই জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোতে বিশেষ টিকাদান (Measles-Rubella Campaign) জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত বিচ্ছিন্নকরণ (Isolation) এবং জটিলতা এড়াতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়তি বেড ও জরুরি ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের শরীরে উচ্চ জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি (Rash) ও কাশির মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।