×
সদ্য প্রাপ্ত:
বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট ফতুল্লায় মাদকের আস্তানায় অভিযানে আগুন—পুলিশের কড়া অভিযানে পুড়ল অপরাধের ঘাঁটি! রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ আগুন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল: ইসি আনোয়ারুল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী: রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা এনবিআরের আন্দোলন: ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ ঠাকুরগাঁওয়ের পথে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত ৯১৭
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-০৯
  • ২৭ বার পঠিত
​মোঃ অলি উদ্দিন মিলন ঢাকা

বাংলাদেশের ৫০ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিষয় যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে,ক্ষমতার পালাবদল এবং তার পরপরই বিদায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে মামলার ঢল। সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রশ্ন, রাজনীতি কি কেবলই ক্ষমতা দখল এবং প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতা? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার এই সংকট নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

​পালাবদলের চক্র ও নীরব প্রতিষ্ঠান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞদের মতে, দেশে যখনই ক্ষমতার রদবদল ঘটে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণের দৃশ্যপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ক্ষমতাসীন অবস্থায় কোনো দল বা তাদের মদদপুষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠলেও, আইনি ব্যবস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মতো সংস্থাগুলো সাধারণত নীরব ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরপরই শুরু হয় দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ডজন ডজন মামলা। হঠাৎ অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠা এই আইনি তৎপরতা কতটুকু অপরাধের শাসন প্রতিষ্ঠা আর কতটুকু 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা':তা নিয়ে জনমনে বরাবরই গভীর সংশয় থাকে।


​কাঠামোগত দুর্বলতা ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম দলীয়করণ ও দুর্বলতা। সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাতান্ত্রিক সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেটগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অটুট থাকে, শুধু তাদের রাজনৈতিক চাদরটি পাল্টে যায়। ব্যাংক লুট, মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের মতো ঘটনাগুলো ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়াতেই ঘটে থাকে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজস্ব কাঠামোর ভেতরের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে না। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কোনো স্থায়ী অবসান ঘটে না, কেবল সুবিধাভোগীদের চেহারার বদল হয়।

​বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের পর্যবেক্ষণ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর মতো নাগরিক সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে সতর্ক করে আসছে যে, এই দুষ্টচক্রের কারণে রাজনীতি ক্রমশ জনকল্যাণের বদলে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি
​বিচারহীনতার সংস্কৃতি: ক্ষমতাসীনদের জন্য এক নিয়ম এবং বিরোধীদের জন্য অন্য নিয়ম এই দ্বৈত নীতি বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
​দুদকের স্বাধীনতাহীনতা: আইনিভাবে স্বাধীন হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে না, যা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

​গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব: রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবই প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে।

উন্নয়নের আড়ালে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নেতাদের কারাবরণ
এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারাটাই বর্তমানে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক সংকট।
​বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিশোধের রাজনীতির এই অশুভ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার নিরঙ্কুশ নিরপেক্ষতা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও সমান আইনি প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, ক্ষমতার পালাবদল ও মামলার এই খেলাকেই সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের 'রাজনীতি' বলে মেনে নিতে বাধ্য হবে, যা একটি টেকসই ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat