পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) কার্যালয়ে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বায়েকের অভ্যন্তরীণ সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একাধিক কম্পিউটার, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের একাধিক যন্ত্রাংশ।
ঘটনাটির পর থেকেই প্রকল্পের নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রকল্পজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকার ২ নম্বর গেটের নিকটে অবস্থিত বায়েক কার্যালয়ের ‘পাওনিয়ার বেজ’-এর সার্ভার রুম থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া ও আগুনের শিখা আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রূপপুর গ্রিন সিটিতে অবস্থিত ফায়ার স্টেশন এবং ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে সার্ভার কক্ষের ভেতরে থাকা স্পর্শকাতর প্রযুক্তি সরঞ্জাম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জানান, মূল পারমাণবিক রিয়্যাক্টর বা প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিরাপদ রয়েছে, কেবল বায়েকের প্রশাসনিক ভবনের সার্ভার রুমে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর সময় ব্যবহৃত পানির কারণেও কিছু আসবাবপত্র ও প্রযুক্তি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে সার্ভার ডাউন থাকায় এবং নিরাপত্তার জন্য পাওয়ার কাট বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সংযোগ সম্পূর্ণ ব্যাহত রয়েছে। কাস্টমস ভবন, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট দেখা দেয়ায় কর্মীদেরও সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর জন্য প্রকৌশলীদের দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।