দিনাজপুর প্রতিনিধি:
একদিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা করছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দল দুটির এই নেতিবাচক আচরণের কারণেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া রায়ের সাথে সরাসরি প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার আমূল উন্নতি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে; দেশজুড়ে দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাস, রাহাজানি এবং ছিনতাই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ পুরনো ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী কায়দাতেই দেশ পরিচালনা করছে। ভোটের পূর্বে তারা সাধারণ জনগণকে যেসব আশ্বাস দিয়েছিল, ক্ষমতায় বসার পর তার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী আচরণ করছে।
পোশাক খাতের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যপ্রবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। সরকার যদি শুরুতেই শ্রমিকদের অত্যন্ত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিত, তবে আজকের এই আন্দোলন এমন সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছাত না এবং কোনো নিরীহ শ্রমিকের রক্ত ঝরত না। এমনকি নিহতের গায়েবানা জানাজার মতো সম্পূর্ণ ধর্মীয় একটি কর্মসূচিতেও সরকারি বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবিলম্বে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদেরকে সরকারের আস্থায় ফেরাতে হবে। কারণ বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে শ্রমিকরা এখন সরকারের কোনো ধরনের মৌখিক আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে পারছে না।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের উসকানিমূলক হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং অন্যদিকে বিএনপির রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে দমনের নীতি—এই দুই মিলে দেশকে এক অনিশ্চিত অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হতে পারে, কিন্তু তারা মূলত একটি আপসকামী দল। যদিও তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন আপসহীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কিন্তু তাঁর দলের সিংহভাগ নেতাই আপসকামিতায় অভ্যস্ত। এমন অনেকে আছেন যারা অতীতে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় চক্রান্তের সাথে তোষামোদ ও আপস করেছেন। ফলে এই আপসকামী নীতি নিয়ে বিএনপি কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এই বিশেষ আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং নীলফামারী—এই চার সীমান্তঘেঁষা জেলার আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সম্পাদকবৃন্দ উক্ত সমন্বয় সভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।