নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও মারধরের ঘটনায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী গণমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরীমণি অ্যালার্জিজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর মক্কেলের জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ মামলার নির্ধারিত দিনে বাদী নাসির উদ্দিন সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। সে সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উভয়পক্ষের শুনানি ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
আদালতের নথি সূত্রে আরও জানা যায়, পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন যে, আজ মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পরীমণি গুরুতর অ্যালার্জিজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ফলে তিনি আদালতে হাজির হতে না পারায় সময় বাড়ানো অতীব আবশ্যক ছিল, অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। সুযোগ বুঝে তাঁরা শহরের বিভিন্ন অভিজাত ও নামীদামি ক্লাবে প্রবেশ করে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে এসে তার মূল্য পরিশোধ করেন না। এ ছাড়া পরীমণি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ভয় দেখান বলেও দাবি করা হয়।
এজাহারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম যখন ক্লাব ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ডেকে নেন এবং কিছু সময় একসঙ্গে বসার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে পরীমণি অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাঁকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের একটি দামী বোতল বিনামূল্যে পার্সেল হিসেবে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বাদী এতে সম্মতি না দেওয়ায় পরীমণি ক্ষিপ্ত হয়ে গালমন্দ শুরু করেন।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। একই সঙ্গে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভাঙচুর চালান।
পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে চিত্রনায়িকা পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে মামলার অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
অন্যদিকে, ঠিক একই রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাল্টা একটি মামলা করেছিলেন পরীমণি। সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে।