×
সদ্য প্রাপ্ত:
খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৩
  • ৩৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা যত দিন জীবিত আছেন, তত দিন তিনি সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন—এমনটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও তার অর্থ এই নয় যে, আগামী ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার পথ সহজ বা সুগম হয়ে যাবে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা কেবল ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিনই এমন অপচেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সরকার কঠোর হস্তে এসব চক্রান্ত প্রতিহত করবে।

পোশাক খাতের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং তাতে নিষিদ্ধঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানির দাম বাড়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা যে কঠিন হয়ে পড়েছে, তা সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকার নতুন মজুরি কমিশন গঠন করেছে, যার ফলে আন্দোলনের মূল যৌক্তিক দাবির ইতোমধ্যে সুরাহা হওয়ার কথা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পোশাকশ্রমিকদের মজুরি প্রতি পাঁচ বছর পর পর্যালোচনা করা হয়। বিগত ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে মজুরি সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই ধারা অনুযায়ী ২০২৬ সালে নতুন কোনো মজুরি কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তা সত্ত্বেও কেবল শ্রমিকদের স্বার্থ ও কল্যাণ বিবেচনা করে সরকার আগেভাগেই এই কমিশন গঠন করেছে।

আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ছড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, উগ্র ও ধ্বংসাত্মক আচরণ কখনোই একজন প্রকৃত পোশাকশ্রমিকের কাজ হতে পারে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, এসব ঘটনার নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্দন ও অর্থায়ন রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে ওই গোষ্ঠীর কাছে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ অর্থ রয়েছে, যা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এর পেছনে ‘ডিসেম্বর ফ্যাক্টর’ যুক্ত কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও, শেখ হাসিনা থাকা পর্যন্ত এমন ষড়যন্ত্র চলবে বলে তিনি ধারণা করেন।

শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ এবং তা দমনে সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, পূর্বের মতো বলপ্রয়োগ বা দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে চায় না বর্তমান সরকার। কারণ এই তরুণরাও দেশের নাগরিক। সে কারণে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারে মুখোমুখি করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি নিজে স্বেচ্ছায় ফিরুন কিংবা তাঁকে আইনের আওতায় আনা হোক—সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। এ ছাড়া তাঁর পাসপোর্টসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যুর বিষয়ে আগাম কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকার যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

সর্বশেষ পুলিশের শক্তি প্রয়োগের সীমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং পরিমিত মাত্রায় শক্তি ব্যবহার করতে হবে। বিগত সরকারের শাসনামলে যেভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করা হতো, সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যূনতম ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চর্চা জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat