শাহিদুল ইসলাম, কালিয়াকৈর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন তৃতীয় দিনে চরম সহিংস রূপ নিয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর, ২০২৬) সকাল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ বিভিন্ন পয়েন্ট অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে নেমে কাজ করছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবি, পুলিশ, সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সকাল থেকেই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এক দফা দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ‘ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা’ করার স্লোগান দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ ও বিজিবি চেষ্টা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরানোর কাজে যোগ দেন।
সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়ক আটকে থাকায় হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মূলত এই দীর্ঘ যানজট নিরসন করতে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব করতেই তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে থেকে রাস্তা সচল করার কাজ করছেন।
তবে এর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকারীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে এ পর্যন্ত বিজিবি সদস্য, পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল (কাঁদনী গ্যাস) এবং ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করছে।
এদিকে টানা তৃতীয় দিনে মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুপাশে দূরপাল্লার বাস, কাঁচামাল ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং শত শত যানবাহন আটকে রয়েছে। কালিয়াকৈর থেকে টাঙ্গাইল সীমান্ত পর্যন্ত তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আজকেও চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার সিংহভাগ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..