×
সদ্য প্রাপ্ত:
আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৮২ জন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০১
  • ৫ বার পঠিত
নরিন জাহান, জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ:

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার চাহিদা। সেই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো সম্প্রসারণ, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ জেলাবাসীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট নিরসন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি প্রয়োজন।

সরকারি জেলা তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে রয়েছে দুটি সরকারি হাসপাতাল, চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ১০১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। বিস্তৃত এই স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ককে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও সহজে পেতে পারেন।

স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক উদ্যোগ

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। হাসপাতালটির ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনের সাত তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়বে এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া)সহ কয়েকটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের জেলা পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া আড়াইহাজার, বন্দর, সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়বে এবং জেলা শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমতে পারে।

যেসব ঘাটতি দূর করা জরুরি

উন্নয়নের এসব উদ্যোগের পাশাপাশি কয়েকটি সমস্যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

প্রথমত, চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেই অনুযায়ী জনবলও নিয়োগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

তৃতীয়ত, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক রোগীর জন্য বাইরে থেকে ওষুধ ও পরীক্ষা করানোর খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চতুর্থত, জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স, আইসিইউ এবং রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

পঞ্চমত, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণ, দালালমুক্ত চিকিৎসাসেবা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

ভবিষ্যতে যে পরিবর্তনগুলো জরুরি

নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

১. প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ।

২. সব আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নষ্ট যন্ত্র দ্রুত মেরামত।

৩. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।

৪. সরকারি হাসপাতালের ওষুধের মজুত ও সরবরাহের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ।

৫. জরুরি রোগীদের জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৬. হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে সেবার মান পর্যবেক্ষণ এবং রোগীদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা।

৭. কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

৮. হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং রোগীদের হয়রানি প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি করা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেন চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বাইরে ছুটতে না হয় এবং অর্থের অভাবে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

স্বাস্থ্য খাতের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

শুধু হাসপাতালের ভবন ও শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং প্রতিটি রোগী যেন সময়মতো, সাশ্রয়ী মূল্যে এবং সম্মানজনক পরিবেশে চিকিৎসা পান—এটাই হওয়া উচিত নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat