×
সদ্য প্রাপ্ত:
আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৮২ জন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০১
  • ২৭ বার পঠিত
শাহিদুল ইসলাম:

একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি হলো তার সড়ক ও মহাসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প, তার জন্য প্রধান প্রধান সড়কগুলো সচল রাখা অপরিহার্য। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায় কিংবা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির যেকোনো আন্দোলনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো। ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো দেশের প্রধান 'লাইফলাইন' সড়কগুলোতে একের পর এক অবরোধের ঘটনা ঘটছে। দাবি আদায়ে রাজপথ জিম্মি করার এই সংস্কৃতি যেমন জনভোগান্তিকে চরম সীমায় নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর খাদের কিনারায়।

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি পাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে সাধারণ শ্রমিকদের টিকে থাকার লড়াইটি সত্যিই কঠিন। কিন্তু এই যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য যখন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিল্পাঞ্চল অংশ, কিংবা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, তখন তার চড়া মূল্য চোকাতে হয় দেশের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিককে। অ্যাম্বুলেন্সে আটকে থাকা মুমূর্ষু রোগী, যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা শিক্ষার্থী কিংবা প্রখর রোদে বাসে আটকে থাকা হাজারো কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তির দায় কে নেবে? একদল মানুষের অধিকার আদায়ের চেষ্টা যখন লাখ লাখ মানুষের চলাচলের মৌলিক অধিকার হরণ করে, তখন আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

সামাজিক দুর্ভোগের পাশাপাশি এই মহাসড়ক অবরোধ দেশের অর্থনীতির পিঠে চাবুক মারার শামিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি পণ্য বন্দরে আনা-নেওয়া করা হয়। ঠিক একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের শিল্পাঞ্চল ও উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানীর যোগাযোগের মূল মাধ্যম। এই পথগুলো বন্ধ থাকার অর্থ হলো—কারখানায় কাঁচামাল পৌঁছাতে দেরি হওয়া, বিদেশি ক্রেতাদের (Buyers) বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারা এবং বন্দরে কনটেইনারের জট সৃষ্টি হওয়া। তৈরি পোশাক খাতের মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সময়ের সামান্য হেরফের হলে অর্ডার বাতিল বা 'এয়ার শিপমেন্ট'-এর চড়া খেসারত দিতে হয়। ফলশ্রুতিতে পুরো শিল্পটিই এক বিশাল ইমেজ সংকটে পড়ে, যা দেশের ভবিষ্যৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শ্রমিকরা তখনই রাস্তায় নামেন যখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। তবে কারখানা মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতাও এই সংকটের জন্য কম দায়ী নয়। অসন্তোষ দানা বাঁধার শুরুতেই যদি দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করা যেত, তবে শ্রমিকদের রাজপথে নেমে আসার প্রয়োজন হতো না। অনেক সময় দেখা যায়, মালিকপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই শ্রমিকরা চূড়ান্তভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এই জবাবদিহিতার অভাব দূর করা জরুরি।

গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। তবে সেই প্রতিবাদ যেন দেশের অর্থনীতি ধ্বংস কিংবা জনজীবন বিপন্ন করার হাতিয়ার না হয়। মহাসড়কগুলোকে সব ধরনের আন্দোলনের আওতামুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়ক সচল রাখা এবং সেই সাথে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত ও স্থায়ী আইনি সমাধান নিশ্চিত করা। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে মহাসড়কগুলোকে অবরোধমুক্ত রাখা এবং আলোচনার টেবিলে সংকটের সমাধান খোঁজার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat