জনি হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, (নীলফামারী):
নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের উত্তরা ইপিজেড মোড় এলাকার রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সে ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন মো. সামিউল আলম। ছামিউল আলমের ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা, ড্রেসিং এবং অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার তথ্য উল্লেখ থাকায় এর কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিকদের হাতে আসা সামিউল আলমের ভিজিটিং কার্ডে প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ উল্লেখ রয়েছে। কার্ডে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা, ক্ষতস্থানের ড্রেসিংসহ অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার প্রচারণা রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে মো. সামিউল আলমের নাম ও যোগাযোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
কার্ডে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা, ক্ষতস্থানের ড্রেসিং এবং অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় এসব সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা নিবন্ধন এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী সিভিল সার্জনের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তাঁর কার্যালয়ে গেলে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
বক্তব্য নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. সামিউল আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করেন বলে জানা গেছে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেই রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সের মালিক কালামের স্ত্রী শাহীনা বেগম ও তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরাও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সকে ঘিরে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ওই কমপ্লেক্সে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত চীনা নাগরিকরা ভাড়া থাকেন এবং সেখানে অল্পবয়সী বাংলাদেশি মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বৈধতা যাচাইয়ের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয়দের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা, ড্রেসিং কিংবা অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা নিবন্ধন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বৈধ অনুমোদনের আওতায় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ জাতীয় আরো খবর..