হাউজিং ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেস্টওয়ে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. মিজানুর রহমান এবং তার স্ত্রী তথা গ্রুপের চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভীরের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান ও আবেদনের প্রেক্ষাপট:
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) মো. সেলিম মিয়া তাঁদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে এই আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা তানভী হাউজিং ব্যবসার নামে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। বর্তমানে এই বিষয়ে দুদক নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার বিবরণ ও পলায়নের শঙ্কা:
প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং গ্রাহকদের সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে গত ২১ জুলাই বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের এমডি মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
দুদক আদালতকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি দেশত্যাগের পাঁয়তারা করছেন। তারা যদি গোপনে বিদেশে পালিয়ে যান, তবে চলমান অনুসন্ধান ও বিচারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বাস্তবতায় অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের বিদেশ গমন অবিলম্বে রহিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দুদক, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।