কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচার দমনে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে গত পাঁচ দিনে তিন দফায় মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে নতুন করে আরও ৪১৫ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানের তিন ধাপ ও পরিসংখ্যান:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ার পর জেলা জুড়ে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
প্রথম দফা (২৪ সেপ্টেম্বর): জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফা (২৬ সেপ্টেম্বর): ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে আরও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১০৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নিয়মিত মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তৃতীয় দফা (২৭ সেপ্টেম্বর): সর্বশেষ রবিবারের অভিযানে নতুন করে আরও ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে তিন দফায় আটকের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৯৩ জনে।
গ্যাং লিডার গ্রেফতারে সাফল্য ও স্থানীয় শঙ্কা:
সর্বশেষ অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায় কুখ্যাত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে (১৯) অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান গ্যাং লিডার রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিক এই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
এদিকে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানকে সাধুবাদ জানালেও স্থানীয় নাগরিকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আটক করা হলেও অনেক মূলহোতা ও গ্যাং লিডার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও নানা প্রভাবের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।