জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই দেশের গণপরিবহনের নতুন ভাড়ার হার চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাস পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে প্রস্তাবিত ৮ বা ১০ পয়সার প্রাথমিক দাবির চেয়েও বাড়িয়ে দূরপাল্লা এবং সিটি সার্ভিস—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা করে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত খরচ আরও এক দফা বৃদ্ধি পেল।
বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) এবং পরিবহন মালিক সমিতির যৌথ পর্যালোচনার পর এই নতুন ভাড়া কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের দাবি, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং খুচরা যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কিলোমিটারপ্রতি এই ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি অপরিহার্য ছিল। নতুন এই হারের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরের সিটি বাস এবং দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রতিটি ট্রিপে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে।
ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়ছে। এর সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা করে বাস ভাড়া বাড়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের টান ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক বাজেটে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ যাত্রীরা এই অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। পরিবহন খাতের এই বাড়তি খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো সরকারি ভর্তুকি বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলে জনঅসন্তোষ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।