জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর পর থেকেই পরিবহন খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গণপরিবহনের যাত্রী সাধারণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার মতো আরেকটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার অজুহাতে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিস বা মেট্রো এলাকার বাসগুলোতে প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা হারে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক সমিতি ও খাতের সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে দাবি করে পরিবহন মালিকরা বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর কাছে নতুন এই ভাড়ার প্রস্তাব পেশ করেছেন। মালিকপক্ষের দাবি, বর্তমান ভাড়ার কাঠামোতে বাস চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাস এবং সিটি সার্ভিসের বিভিন্ন রুটে কিলোমিটারপ্রতি প্রস্তাবিত এই বর্ধিত হার কার্যকর হলে গাড়িগুলোর পরিচালন ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সাধারণ যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক চাপ ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে শুরু করে সার্বিক জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়েছে। এমন একটি সংকটময় সময়ে কিলোমিটারপ্রতি নতুন করে এই ৮ থেকে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যাত্রীদের একাংশের মতে, পরিবহন খাতের যেকোনো মূল্য সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত জনগণের পকেট কাটে এবং এর প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ে।
দূরপাল্লায় কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পরিবহন খাতের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন এক পরীক্ষার জন্ম দিয়েছে। বিআরটিএ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ভাড়া কতটুকু বাড়বে।