স্মার্টফোনের বাজারে নতুন যুগ শুরু করে নিজেদের প্রথম ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য ফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ (iPhone Duo) প্রকাশ করেছে অ্যাপল। স্টিভ জবস থিয়েটারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রযুক্তি বিশ্বের বহুল প্রতীক্ষিত এই ডিভাইসটির ঘোমটা উন্মোচন করেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস।
২০০৭ সালে প্রথম আইফোন আসার পর এটিকে আইফোনের নকশায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
'আইফোন ডুয়ো'-তে অ্যাপল তাদের ঐতিহ্যবাহী আইফোন ডিজাইন এবং আইপ্যাডের বড় স্ক্রিনের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে:
ডুয়াল ডিসপ্লে: ফোনটি বন্ধ থাকা অবস্থায় বাইরে মিলবে ৫.৪ ইঞ্চির ডিসপ্লে। তবে খুললে এটি ৭.৬ ইঞ্চির একটি বিশাল ডিসপ্লেতে পরিণত হয়, যা ভিডিও দেখা বা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য আদর্শ।
সবচেয়ে পাতলা আইফোন: ভাঁজ খোলার পর এটি অ্যাপলের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা আইফোন (মাত্র ৫.২ মিমি)।
প্রিমিয়াম মেটেরিয়াল ও স্থায়িত্ব: গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম ফ্রেম, সেরা পারফরম্যান্সের সিরামিক শিল্ড গ্লাস এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সের জন্য আইপি৬৮ (IP68) রেটিং দেওয়া হয়েছে।
সিকিউরিটি ও অ্যাক্সেস: ফেস আইডির বদলে এতে সাইড পাওয়ার বাটনে যুক্ত করা হয়েছে ফাস্ট টাচ আইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
এ ৯ প্রসেসরের ধারাবাহিকতায় এতে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক A20 Pro চিপসেট এবং অ্যাপলের নিজস্ব ‘C2’ সেলুলার মোডেম।
ক্যামেরা প্রযুক্তি: ডুয়াল ৪৮ মেগাপিক্সেল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম রয়েছে এতে। ফোনটি অর্ধেক ভাঁজ করে কোনো সমতল স্থানে রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রুপ ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাইরের ডিসপ্লেতে লাইভ প্রিভিউ দেখে পেছনের ক্যামেরায় নিখুঁত সেলফি নেওয়া যাবে।
ব্যাটারি ও চার্জিং: ডুয়াল-ব্যাটারি আর্কিটেকচারের ফলে এতে টানা ২৪ ঘণ্টার স্বাভাবিক ব্যবহার বা ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। এতে রয়েছে ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ডুয়ো মোট দুটি রঙে পাওয়া যাবে—স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই।
প্রারম্ভিক মূল্য: ২৫৬ জিবি মেমোরি ভ্যারিয়েন্টের ফোনটির শুরুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৯৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা)।
অগ্রিম বুকিং ও বিক্রি: আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ফোনটির প্রি-অর্ডার এবং বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পৌঁছাবে আগামী ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।