সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিভিল সার্ভিস সংস্কারের সাম্প্রতিক সুপারিশকে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ এবং স্বজনপ্রীতির চক্রান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং মেধাভিত্তিক সরকারি প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভার গুরুত্ব ও নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে কয়েকটি মূল বিষয় তুলে ধরেন:
মেধাবীদের বঞ্চিত করার চক্রান্ত: তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো দলীয় ক্যাডার ও পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া এবং প্রকৃত মেধাবী পরীক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা: ভাইভাতে বেশি নম্বর থাকলে সেখানে চরম স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা এবং আর্থিক লেনদেনের দুর্নীতির সুযোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেবে।
বিগত দিনের অভিজ্ঞতা: আগের সরকারগুলোর আমলেও ভাইভার নম্বর ব্যবহার করে প্রশাসনে চরম দলীয়করণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি সহ্য করা হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে লিখিত পরীক্ষাকেই মূল যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বহাল রাখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সকল প্রকার রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান তিনি।