মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিয়ে দেশে আত্মহত্যার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী।
১০ সেপ্টেম্বর 'বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মানসিক অসুস্থতা এবং হতাশাজনিত সমস্যা দূর করতে জাতীয় পর্যায়ে নতুন বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
২৪/৭ হেল্পলাইন চালু: মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিতে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্য: তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্সিলর নিযুক্ত করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের তদারকি এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে মেন্টাল হেলথ ক্লাব ও কাউন্সেলিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মানসিক বিষণ্ণতা বা চাপ লুকিয়ে রাখা যাবে না। অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক চিকিৎসার বিষয়ে সামাজিক লজ্জা ও ট্যাবু ভেঙে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতাই পারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এবং আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করতে। মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।