ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর বাতিলের পর এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো অফিসিয়াল প্রতিনিধি দল অংশ নেবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন:
প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত: “ব্রিকস সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সশরীরে অংশ নিচ্ছেন না—এ সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার এ বছর ব্রিকসের কোনো সশনেই নতুন করে কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”
কূটনৈতিক অগ্রাধিকার: তিনি আরও জানান, বহুপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি কোনো দেশের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা ও উপযুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশের ওপর ঢাকা গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যান্য কর্মসূচি: শীর্ষ সম্মেলনে কূটনৈতিক ব্যস্ততার চেয়ে বর্তমানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলোতে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চলতি বছর ভারতের আয়োজনে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সংস্থা বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকেও এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আয়োজক দেশ ভারত।
প্রাথমিকভাবে অর্থ উপদেষ্টা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি পাঠানোর গুঞ্জন থাকলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আজকের স্পষ্ট বার্তার পর নিশ্চিত হলো—এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো উপস্থিতি থাকছে না। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা হিসাব-নিকাশের ভেতরেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।