দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সুসংহত করতে বিদ্যমান বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে একটি নতুন ও যুগোপযোগী সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাসের কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী আইনগুলোর যেসব বিতর্কিত ধারা সাংবাদিকদের হয়রানি ও মুক্ত প্রকাশে বাধা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হতো, নতুন খসড়ায় সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে পরিমার্জন করা হচ্ছে:
সাংবাদিক হয়রানি রোধ: নতুন আইনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে সরাসরি গ্রেফতার বা ডিজিটাল ধারায় হয়রানি করার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।
সাইবার অপরাধের নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন: সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সাইবার অপরাধকে গুলিয়ে না ফেলে কেবল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, হ্যাকিং, আর্থিক ডিজিটাল জালিয়াতি ও পর্নোগ্রাফির মতো সুনির্দিষ্ট অপরাধকেই এ আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
অংশীজনদের মতামত গ্রহণ: সাংবাদিক ইউনিয়ন, সম্পাদক পরিষদ, আইনি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত খসড়া আইন অনুমোদন করা হবে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম। সাইবার জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকেরা যাতে অবাধ ও ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সরকার সে লক্ষ্যে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন আইনটি পাস হলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও সাংবাদিকদের মনের আতঙ্ক দূর হবে এবং দেশে এক দায়িত্বশীল ও মুক্ত সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।