সৌদি আরবের চারটি শহরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এক দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এই হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে। ছয় মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে একে একটি বড় ধরনের রূপ পরিবর্তন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হামলার মূল বিবরণ ও স্থানসমূহ:
আক্রান্ত শহর ও লক্ষ্যবস্তু: সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত-এর একটি বিমানঘাঁটি, কাছের আবহা শহরের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির স্থাপনা, সীমান্তবর্তী নাজরান এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী জাজানের একটি বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে একযোগে হামলা চালানো হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত: সৌদি কর্তৃপক্ষ স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আহত ৭৩ জনের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সৌদির পাল্টা হামলা: হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলার জবাবে ইয়েমেনের জুবাহ জেলায় অন্তত চার দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব:
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সৌদি আরবের ওপর এই ধরণের আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালির বাইরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।