ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উভয় দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিধি অনুসরণ করে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালত থেকে সাজা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় কোনো অপরাধীরই আত্মসমর্পণ বা স্বাভাবিকভাবে বিচরণের সুযোগ নেই। ফলে ভারত সরকার থেকে ফেরত পাঠানোর পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই তাকে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে এই মামলার সঠিক নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যা, গুম ও দুর্নীতির ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি সঠিক অধ্যায় রচনা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জটিলতাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায় বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি মাত্র ইস্যুর ওপর নির্ভর করে না। বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক কূটনীতিসহ অন্যান্য বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সফর বিনিময় তার নিজস্ব গতিতেই স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।
তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সদিচ্ছা এবং প্রক্রিয়াগত শর্ত পূরণের মাধ্যমেই কেবল আসামিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর সম্ভব এবং এতে কিছুটা সময় লাগলেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই।