যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত নারী ভোটকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে ধানের শীষ প্রতীকের ৬ কর্মীকে মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। পৃথক দুই মামলায় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল অভিযুক্ত ৭ জনের স্বশরীরে উপস্থিতিতে সামারি ট্রায়াল শেষে রায় প্রদান করেন। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রায়ে প্রথম মামলায় মো. ইব্রাহিম হোসেন, মো. শিমুল হোসেন ও কবির হোসেনকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং লিয়াকত আলীকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে অভিযুক্তরা নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) ধারা লঙ্ঘন করায় The Representation of the People Order, 1972 এর Article 91B(3) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
একইদিনে কমিটির দ্বিতীয় মামলায় হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামে একই ধরনের ঘটনায় মো. শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শুনানি শেষে মো. শাহাব্দীনকে ১০ হাজার টাকা এবং মুকুল ও মন্টু রহমানকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের ৮ ফেব্রুয়ারি স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা ও নারী কর্মীদের প্রতি হয়রানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এ ধরনের অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।