শরীয়তপুর–২ (নড়িয়া–সখিপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল তার ১৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
(৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার) সকাল ১১টায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ২০ পৃষ্ঠার এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন। ‘সমৃদ্ধ নড়িয়া–সখিপুর গড়ার অঙ্গীকার’ শিরোনামে প্রকাশিত এই ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ১৪টি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলো হলো— সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা, জনসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ, সামাজিক ন্যায়বিচার, অবকাঠামো ও চরাঞ্চল উন্নয়ন, যুব কর্মসংস্থান, প্রবীণ ও সংখ্যালঘু কল্যাণ, পর্যটন ও ইকো পার্ক, প্রবাসী কল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু।
ইশতেহারের শুরুতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা আরও কার্যকর করতে সখিপুর উপজেলা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদকে স্থানীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা, দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, জননিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি সেবা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল বলেন, “আমি সুশাসনকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।”
ইশতেহারে কৃষি ও মৎস্য ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল করার পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়। নড়িয়া ও সখিপুরের প্রতিটি পরিবারের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং সখিপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শিক্ষা খাতে শূন্য পদ পূরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক অনলাইন শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং প্রবাসীদের জন্য ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়।
দরিদ্র, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও অধিকারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী ও যুব উদ্যোক্তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পদ্মা–মেঘনা অঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ, চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়।
সবশেষে অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল নড়িয়া–সখিপুরকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও টেকসই উন্নয়নমুখী জনপদে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।