×
সদ্য প্রাপ্ত:
একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৪
  • ৩১ বার পঠিত

আইন প্রতিবেদক:

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই সত্যতা পাওয়ার দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিং এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়ের করা রিটের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আগামী ১১ নভেম্বর এই বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটির ওপর এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নতুন করে আবেদনটি বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির একজন উপপরিচালক জানান যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ এবং পদোন্নতি-বাণিজ্যের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আসিফ মাহমুদের আইনি যুক্তিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধান সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সুতরাং, অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়েই সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে আগাম ঘোষণা দেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার দুদকের নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দুদকের সচিব উক্ত বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা বলে ব্যাখ্যা দেন। সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই বক্তব্যকে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমে পরবর্তীতে কোনো সংশোধনী বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে রিটে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে যথাযথ আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন আসিফ মাহমুদ। তবে সেই নোটিশ আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের একজন সহকারী পরিচালক আরও একটি প্রেস ব্রিফিং করেন বলে আবেদনে তুলে ধরা হয়। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ সামনে আনা হয়।

রিটে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে আবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত রায়ের আইনি প্রেক্ষাপটেই কেবল মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট আদেশে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া প্রায় ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জোরালো দাবি করেছেন তিনি। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ২০২৬ সালের ১১ মে ওই পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছিল। কাজেই এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো রকম সম্পৃক্ততা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার ঠিক প্রাক্কালে সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণমাধ্যমভিত্তিক বিচার তৈরি করার হীন উদ্দেশ্যেই এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দুদকের এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য প্রচার বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জন্য স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১-এর পরিপন্থী।

আদালতে দাখিল করা এই রিটে বিচারাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয় নিয়ে এ ধরনের জনসমক্ষে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে স্থায়ীভাবে বিরত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর বক্তব্যগুলো সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের মাধ্যমে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন রিটকারী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat