দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলায় অষ্টমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে জেলা আঞ্চলিক ইজতেমা। আগামী শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে এই ধর্মীয় সম্মেলন চলবে রবিবার (৮ নভেম্বর) পর্যন্ত। ওই দিন শেষ বিকেলে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটবে এই ইজতেমার।
ইতোমধ্যেই শহরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে (হেলিপ্যাড এলাকা) ইজতেমায় অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশালাকার প্যান্ডেল, আধুনিক টয়লেট, অজুখানা এবং আগত মেহমানদের জন্য বিশেষ থাকার ঘর নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্যান্ডেলজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
এবারের ইজতেমায় দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ আশপাশের অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা তাবলিগ জামাতের আমিরে ফয়সাল এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, বাংলাদেশের প্রধান আমিরে ফয়সাল এবং ঢাকার কাকরাইল মারকাজের শীর্ষ জিম্মাদারসহ (দায়িত্বশীল) বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুরুব্বি এই ইজতেমায় অংশ নেওয়ার জন্য দিনাজপুরে আসবেন।
জেলা তাবলিগের অপর অন্যতম দায়িত্বশীল শেখ সাবির আলী জানান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সুদান থেকে আসা আন্তর্জাতিক জামাতগুলো ইতোমধ্যেই দিনাজপুরে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি অন্যান্য আরও কয়েকটি দেশের জামাত বর্তমানে পথিমধ্যে রয়েছে। তাঁরা ইজতেমায় অংশ নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ আম বয়ান পেশ করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার থেকে শুরু হলেও মূলত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জামাতবদ্ধ হয়ে মুসল্লিরা মাঠে জমায়েত হতে শুরু করবেন। দুপুরের মধ্যেই পুরো ময়দান মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরেজমিনে ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাশ্রম দিতে বুধবার বিকেল থেকেই মাঠে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন বয়সের মুসল্লিরা। আগতদের অজু ও গোসলের পানির নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে টিউবওয়েল, একটি গভীর সাব-মারসিবল পাম্প ও শক্তিশালী মোটর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুই শতাধিক টয়লেট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমায় আসা বিদেশি মেহমান ও প্রবীণ তাবলিগ সাথিদের সুবিধার্থে মাঠের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ থাকার কক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুর জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমার সূচনা হয়। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে টানা দুই বছর ইজতেমা বন্ধ থাকলেও, এবার নিয়ে দিনাজপুরে অষ্টমবারের মতো সফলভাবে আয়োজিত হচ্ছে এই আঞ্চলিক ইজতেমা।
পরবর্তী সংবাদের রূপান্তর বা সংক্ষিপ্তকরণের জন্য টেক্সট পাঠাতে পারেন।